শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারী ২০২৬, ০৫:৫৫ অপরাহ্ন
নিজস্ব প্রতিবেদক॥
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে ভবিষ্যতের সকল নির্বাচনের জন্য একটি অনন্য মানদণ্ড বা ‘বেঞ্চমার্ক’ স্থাপন করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি দৃঢ়তার সাথে জানিয়েছেন, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনে অন্তর্বর্তী সরকার এখন পুরোপুরি প্রস্তুত।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) রাজধানীর রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় বাংলাদেশে নিযুক্ত নতুন মার্কিন রাষ্ট্রদূত ব্রেন্ট ক্রিস্টেনসেন সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে এলে প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। বৈঠককালে আসন্ন নির্বাচন, শ্রম আইনের সংস্কার, বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র শুল্ক চুক্তি, রোহিঙ্গা সংকট এবং আঞ্চলিক কূটনীতির মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো আলোচনায় উঠে আসে।
উৎসবমুখর নির্বাচনের প্রত্যাশা
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, “১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন হবে স্বচ্ছ ও অবাধ। এটি একটি উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হবে, যা আগামীর জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিশ্বের অন্যান্য উন্নয়ন সহযোগীরা এই নির্বাচন পর্যবেক্ষণে প্রতিনিধি পাঠাবে বলে আমরা আশাবাদী। আসুন, আমরা ইতিবাচক থাকি।”
দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও শুল্ক সুবিধা
আলোচনাকালে প্রধান উপদেষ্টা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে বাংলাদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক কমানোর জন্য ধন্যবাদ জানান। তিনি আশা প্রকাশ করেন, চলমান বাণিজ্য আলোচনার মাধ্যমে এই সুবিধা আরও সম্প্রসারিত হবে। জবাবে রাষ্ট্রদূত ক্রিস্টেনসেন বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও কৃষিপণ্যের আমদানি-রপ্তানি বৃদ্ধিতে ঢাকার সাথে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
সংস্কার ও নেতৃত্বের প্রশংসা
মার্কিন রাষ্ট্রদূত গত ১৮ মাসে অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কার উদ্যোগ এবং অধ্যাপক ইউনূসের দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি নতুন শ্রম আইন প্রণয়নের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে যারা সরকার গঠন করবেন, তাদের সাথে কাজ করতে যুক্তরাষ্ট্র অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে।”
রোহিঙ্গা ইস্যু ও আঞ্চলিক সংযোগ
রোহিঙ্গা শিবিরে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত মানবিক সহায়তার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এছাড়া তিনি বাংলাদেশকে দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার মধ্যে ‘সেতুবন্ধন’ হিসেবে গড়ে তোলার পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, বাংলাদেশ ইতোমধ্যে আসিয়ানের (ASEAN) ‘সেক্টরাল ডায়ালগ পার্টনার’ হওয়ার আবেদন করেছে এবং সার্ককে (SAARC) পুনরুজ্জীবিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
বৈঠকে বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের ওপর সাম্প্রতিক মার্কিন ভিসা নিষেধাজ্ঞার বিষয়টিও আলোচিত হয়। এ সময় প্রধান উপদেষ্টার সাথে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান এবং এসডিজি বিষয়ক সমন্বয়ক লামিয়া মোরশেদ।
সূত্র: বাসস…